• রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
বড়াইগ্রামে ৩৬ জুলাই উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও চলচিত্র/প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি পিকেএম আব্দুল বারী, সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন লাইফ বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত, ৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন বড়াইগ্রামে ‘বনলতা প্রেসক্লাব’-এর ১৮ সদস্যের কমিটি গঠন কাদামাখা পথ পেরিয়ে জাতীয় ফুটবলে সেরার স্বীকৃতি, লালপুরের ফারিহা ‘ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট’ বন্ধুত্বের টানে চীনা নাগরিক বড়াইগ্রামে নাটোরে জাতীয় দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার সম্পাদকের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Stap voor Stap De Vox Casino Reload Bonus Activeren van in Nederland বিশ্বকাপের আমেজে বড়াইগ্রামে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বড়াইগ্রামে উচ্চ আদালত অমান্য করে জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা,বাধা দেয়ায় বৃদ্ধ বাবা-মা ও ছেলেকে পিটিয়ে জখম

বড়াইগ্রামে ধর্ষণ চেষ্টার দায়ে আটক শিল্পপতিকে ছেড়ে দিলো পুলিশ

Reporter Name / ৯৮ Time View
Update : রবিবার, ২৫ মে, ২০২৫

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি:

নাটোরের বড়াইগ্রামে মমিন গাজী নামের এক শিল্পপতিকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে হাতে নাতে ধরেও ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে উপজেলার বনপাড়া বাজারের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ভবনের তিন তলায় নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। মমিন গাজী বনপাড়া পৌর এলাকার বাসিন্দা ও মহিষভাঙ্গা এলাকার গাজী অটো রাইচ মিলের স্বত্বাধিকারী।

বনপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী জানান, ভুক্তভোগী মেয়েটি আমার মামাতো বোনের মেয়ে। তার বাবার বাড়ি লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌর এলাকায়। বিয়ে হয়েছিল বগুড়ায়। শুক্রবার তার স্বামী তাকে মারপিট করে। খবর পেয়ে আমি গিয়ে তাকে রাত ১২ টার দিকে বনপাড়াতে নিয়ে আসি। কিন্তু এতো রাতে গোপালপুর যাওয়ার কোন যানবাহন না থাকায় তাকে আমার বন্ধু মমিন গাজীর বাড়িতে রেখে আসি। সকালে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারি আমার ভাগনীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ মমিন গাজীকে আটক করেছে। আর ভাগনীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। তিনি আরো বলেন, পরে ভাগনীর কাছে গিয়ে জানতে পারি যে, আমি রেখে আসার পর মমিন গাজী নেশা করে আমার ভাগনীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে সে সরকারি জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ভর্তি করে।

দুপুরে সরেজমিনে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য রোগীরা নির্ধারিত ওয়ার্ডে ভর্তি থাকলেও পুলিশ পাহারায় ওই মেয়েটিকে নতুন ভবনের আলাদা একটি কক্ষের ভেতরে একটি বেডে শুইয়ে রাখা হয়েছে। এ সময় অভিযুক্ত মমিন গাজীর ছোট ভাই মাহবুব গাজীকে ওই বেডের পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলেও মেয়েটিকে তারা কথা বলতে দেননি। কিছুক্ষণ পরেই মাহবুব গাজীসহ অন্যদের সহায়তায় তারা কৌশলে মেয়েটিকে হাসপাতাল থেকে বের করে দ্রুত একটি প্রাইভেট কারে চড়িয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

এ সময় হাসপাতালের ওই কক্ষের বাইরে বসে থাকা মেয়েটির মায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এমনিতেই খুব চাপে আছি, আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারছি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, অভিযুক্তরা এলাকায় খুবই প্রভাবশালী ও ধনী। তারা মেয়ে ও তার স্বজনদের চাপে রেখেছে। এ কারণে তারা কারো সাথে কথা বলতে পারছে না, এমনকি মামলা করতেও যেতে পারছে না।

অভিযুক্ত মমিন গাজীর একাধিক প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভোর সাড়ে চারটার দিকে মেয়েটির চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে পাই। কিছুক্ষণ পরই ওই বাড়ির সামনে পুলিশের গাড়ি এসে তাদের দুজনকেই নিয়ে যায়। মেয়েটিকে বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে রাতে ধর্ষণ চেষ্টা করা হয়েছে বলে শুনেছি।

অভিযুক্ত শিল্পপতি মমিন গাজীর সাথে কথা বলতে অনেকবার চেষ্টার পরে, মুঠোফোনে তিনি বলেন, মেয়েটি আমার পরিচিত, এখানে ধর্ষণ চেষ্টার কোন ঘটনা ঘটেনি, এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি। মেয়েটি জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল করলো কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সদুত্তর না দিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কল কেটে দেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ডলি রাণী বলেন, ভোরে পুলিশ এসে মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে। আমরা তাকে চিকিৎসা দিয়েছি। তবে থানায় মামলা না হওয়ায় ধর্ষণ বা ধর্ষণ চেষ্টার কোন পরীক্ষা আমরা করতে পারিনি।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন, ৯৯৯ নম্বরের ফোন পেয়ে মমিন গাজী নামের একজনকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু পরে কোন লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা