মাগুরা প্রতিনিধিঃ
মাগুরার শালিখার থৈপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অলীপ কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সুরঞ্জিত কুমার বিশ্বাস । মামলা নং ২০৬/২৫। এছাড়াও শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিভিন্ন দপ্তর বরাবর লিখিতভাবে একই অভিযোগ করেছেন তিনি।
মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের জায়গায় মার্কেট বরাদ্দ দিয়ে ছয় জনের কাছ থেকে বার লক্ষ টাকা ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে আনুমানিক আট লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ের আঙিনায় কিছু গাছ ছিল তা বিক্রয় করে সেই টাকাও আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
এলাকাবাসী ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের দেয়া তথ্য সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন সভাপতি ছিলেন রিতা রানী শিকদার কিন্তু ক্ষমতার জোরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিমলেন্দু শিকদার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। একজন সভাপতি থাকা সত্বেও অন্য কেউ এই গুরুত্বপূর্ণ পদে হস্তক্ষেপ কিভাবে করতে পারে তা কাহারই বোধগম্য নয়, প্রধান শিক্ষক ও চেয়ারম্যান বিমলেন্দু শিকদার এ সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত আছেন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

আরো জানা যায়, চাকরি দেওয়ার কথা বলে সুব্রত বিশ্বাসের কাছে আশি হাজার, বিমল গাইনের কাছে নব্বই হাজার ও নারায়ন বাড়ই এর কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। এই অর্থনৈতিক লেনদেন এর সাক্ষী উপজেলার নাঘোসা নবম পল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনসার আলী বিশ্বাস। টাকা নিলেও ওই ভুক্তভোগী তিনজনের চাকরি দিতে ব্যর্থ হন এই দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক। ভুক্তভোগী ৩ জন জানান, চুক্তি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক সাহেব আমাদের চাকরি দিবেন অথবা আমাদের ক্ষতিপূরণ সহ সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দিবেন, অন্যথায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব। এ বিষয়ে আমরা বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের মিটিং এ জানিয়েছি। অপর একটি অভিযোগে দেখা যায়, চারটি নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে ৪৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রধান শিক্ষক। যদিও সে বিষয়টি অবগত নন তিনি বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক অলীপ কুমার বিশ্বাস।
বিদ্যালয় মার্কেটের ভাড়াটিয়া মিঠুন বিশ্বাস বলেন, এই ছয়টা ঘর বাবদ আমরা বারো লক্ষ টাকা প্রধান শিক্ষকের হাতে দিয়েছি, সেখানে সভাপতি সাহেব উপস্থিত ছিলেন। আমাদের কাছে চুক্তি নামা রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক অলিপ বিশ্বাস নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়ে আমি অবগত নই। কারন ক্ষমতার কাছে হাত পা বাঁধা ছিলো, প্রধান শিক্ষক হিসেবেও আমাকে মূল্যায়ন করা হয়নি। সাবেক সভাপতি কাউকে তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার জোরে সার্বিক কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন । আপনারা তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানি মূলক।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোসর ও দুর্নীতিগ্রস্ত সাবেক সভাপতি বিমলেন্দু সিকদার পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বর্তমান সভাপতি সুলভ বিশ্বাস জানান, সাবেক সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও দুর্নীতির সুস্থ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
এসকল বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ বনি আমিন জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে অবশ্যই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।