বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি:
আপনাদের সন্তান, ভাই, বন্ধু এবং সকলের পরিচিত মুখ মাহমুদুল হাসান মেমন। তাঁর পিতা মোঃ শফিকুল ইসলাম ছহির উদ্দিন। তিনি ১৯৯০ সালের ২০শে মার্চ বনপাড়া পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড মহিষভাঙ্গা গ্রামে এক সুনামধন্য রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি বনপাড়া সেন্ট যোসেফ স্কুল এন্ড কলেজ থেকে প্রাথমিক এবং ২০০৫ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন। ২০০৮ সালে বনপাড়া ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজ থেকে দর্শন বিভাগে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন বিভাগ ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে প্রথম শ্রেণীতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ায় ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা কলেজ শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় বিএনপি বিরোধী দলে থাকলেও তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে সকল দায়িত্ব ও কর্মসূচি পালন করেন। পড়াশোনা শেষে এলাকায় ফিরে এসে বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, বনপাড়া শহর শাখার সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ত্যাগ, তিতিক্ষা ও অপূরণীয় ক্ষতির মধ্যেও সক্রিয় রাজনীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ২০০২ সালে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তাঁর ছোট চাচা শহীদ আলম। দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো হয়নি। তাঁর বড় চাচা সাহের উদ্দিন ৫ নং মাঝগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বড়াইগ্রাম উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায় চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন, যদিও এ মৃত্যুকে ঘিরে পরিবারের মধ্যে এখনো সন্দেহ রয়েছে।
এছাড়াও তাঁর মেজো চাচা তোরাপ হোসেন মোল্লা এবং চাচাতো ভাই শামীম মোল্লা রাজনৈতিক মামলায় দীর্ঘদিন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তাঁর ছোট ভাই মোঃ রিমন মোল্লা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুরুতর আহত হন এবং মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন। আহত অবস্থায় বাড়িতে ফেরার পরও প্রশাসনের হয়রানির শিকার হন তিনি। সব মিলিয়ে বড়াইগ্রামের রাজনৈতিক পরিবারগুলোর মধ্যে মেমনের পরিবার অন্যতম নির্যাতিত পরিবার হিসেবে পরিচিত।
ব্যক্তিগত জীবনে মাহমুদুল হাসান মেমন সৎ, বিনয়ী ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একজন ব্যক্তি। তাঁর বিরুদ্ধে কখনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য তিনি সর্বজন প্রশংসিত।
বর্তমানে তিনি বনপাড়া পৌরসভার উন্নয়নে একটি সুপরিকল্পিত ভিশন নিয়ে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে তিনি ১২ দফা নির্বাচনী অঙ্গীকার ঘোষণা করেছেন, যেখানে বনপাড়াকে একটি আধুনিক, সুন্দর ও সেবামুখী পৌরসভায় রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মাত্র ৩৮ বছর বয়সী এই শিক্ষিত, মার্জিত ও উদ্যমী তরুণ নেতা বিশ্বাস করেন-পরিবর্তনের জন্য নতুন প্রজন্মকে সুযোগ দিতে হবে। তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, আমরা সবাই মিলে বনপাড়া পৌরসভায় একটি স্বচ্ছ, মানবিক ও উন্নয়নমুখী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করি”
তিনি ইতোমধ্যে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বনপাড়া পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে তিনি বনপাড়া পৌরসভার সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন-তাঁকে সমর্থন ও সহযোগিতা করার জন্য এবং মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে একটি সুযোগ দেওয়ার জন্য, যেন তিনি জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন।
কিছুদিনের সম্পর্কেই আসলে যতটুকু জানতে পেরেছি ,তিনি একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তিনার মধ্যে মানবতা মনুষত্ববোধ এবং সর্বোপরি ভালো মানুষের সকল গুণাবলী বিদ্যমান রয়েছে । আল্লাহ তিনার সকল নেক আশা পূরণ করুন এবং বনপাড়া পৌরসভার মেয়র হিসেবে কবুল করে নিন । আমিন।